Saturday, April 18, 2009

বাম এম পি প্রার্থীদের ওপর বিমান বাবুর কন্ট্রোল নেই.....রেওয়াজ ভাঙার খেলায় মত্ত তড়িৎ,অমিতাভ,সেলিমরা...





ভাস্কর ব্যানার্জী,কলকাতা,১৮ই এপ্রিল'০৯
সেলিমের ‘জয় হো’ পোস্টার নিয়ে সি পি আই(এম) দলে মতবিরোধ ছিলো। প্রার্থীর ছবি দিয়ে ভোট চাওয়া এ দলের রেওয়াজ নয়। ব্যক্তির থেকে দল বড়। এই নীতি নিয়েই নিজেদের ব্যক্তিত্বকে এতদিন পর্যালোচনা করে এসেছেন কমরেডরা। সে ধারনায় প্রথম বড় ধাক্কা দিলেন মহঃ সেলিম। উত্তর কলকাতায় সেলিমের নিবার্চনী কেন্দ্রে সেলিমের ছবি দিয়ে বানানো পোস্টার দলের অমত সত্বেও রয়েছে বহাল তবিয়তে। জয় হো লেখা হোডিং না থাকলেও দখিন ভারতীয় কায়দায় বড় বড় কাট আউটে নিজেদের নির্বাচনী কেন্দ্র সাজিয়েছেন তড়িৎ-অমিতাভরা। ৩৪ নং জাতীয় সড়কের দু’পাশে শোভা বর্ধন করছে তড়িৎ বাবুর ছবি দেওয়া বড় বড় কাট আউট। যেখানে সোনিয়া রাহুল মমতার কাট আউট থাকলেও তা চোখে পড়ছে না। তড়িৎ বাবুর কাট আউট এ তাকে পরিস্কার ভাবে দেখা গেলেও তার দলের প্রতিক চিহ্ন কে খুঁজতে প্রয়োজন মাইক্রোস্কোপ।
অমিতাভ বাবু কম যায় কিসে??সুভাষ বাবুর মতো
“মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক,
আমি তোমাদেরই লোক”।
স্লোগান না থাকলেও রয়েছে অমিতাভ বাবুর বড় বড় ব্যানার হোর্ডিং এ ব্যবহার করা হয়েছে তার ছবি। কোথাও কোথাও বড় বড় দেওয়ালে অয়েল পেন্ট করা বাবু অমিতাভ নন্দির ফটো।

সেলিমের আবার নব সংযোজন নতুন কিছু পোস্টার যার তলায় সৌজন্য কথাটি ব্যবহার করে রাম,শ্যাম,যদু,মধুর নাম। এই সৌজন্য দেখিয়ে পোস্টার বানানোর রেওয়াজ এতদিন ছিলো কংগ্রেস বা তৃনমূলে। সেলিম সাহেবের হাত ধরে এবার এই রেওয়াজ আমদানি হলো প্লোরেতারিয়তের এই দলে। সৌজন্যে যারা সেলিম সাহেবের পোস্টার ছাপিয়েছেন তারা সেলিম বাবুর ব্যবসাই বন্ধু-বান্ধব। নিজেদের নাম প্রকাশের সাথে সাথে এরা ছাপিয়েছেন নিজেদের ছবিও।
এদের ‘কর্মকান্ড, সংসদীয় নিষ্ঠা’ দেখে প্রথমে এদের কে মনোনয়ন দিতে রাজি ছিলো না সি.পি.আই(এম) রাজ্য কমিটির এর এক অংশ। কিন্তু কোনও এক অদৃশ্য বল-এ কল-কাঠি নাড়িয়ে এরা জায়গা করে নিয়েছে সি.পি.আই(এম)-এর লোকসভা প্রার্থী তালিকায়। তারপর থেকেই এরা কার্যত “বাগি” হয়ে উঠেছে। প্রথম প্রথম বিমান বাবু এদের সংযত করার চেষ্টা করলেও এখন হাল ছেড়ে দিয়েছেন বলেই মনে হয়। কারন ‘জয় হো’ পোষ্টার বিতর্কের পরেও সেলিম ওই পোষ্টার না খোলায় তিনি কোনও রকম বাদানুবাদে যাননি। বিমান বাবুর অবস্থা কেমন যেন ‘ভিস্ম পিতামহের’ মতো করুন।
তাই বোধহয় আরো বাড়াবাড়ি শুরু করে ফেলছেন এরা। বিশেষ করে সি.পি.আই(এম)-এর ‘বাগি সাহেজাদা সেলিম’। সেলিম ছাত্রাবস্থা থেকে মার্কসিয় আদর্শে বিশ্বাসি হলেও ভোটের বাজার দখলের তাগিদে হনুমান মন্দিরের চরনামৃত খাওয়া থেকে জুম্মা বারে মনোনয়ন জমা দেওয়া কিছুই বাদ দেননি সেলিম।
কংগ্রেসের সাথে চার বছর কেন্দ্রীয় সরকারে হানিমুন করেছে সি পি এম। সেখান থেকেই কি এ ছোঁয়াচে রোগ ধরলো সি পি এমে। কারন সৌজন্যে পোস্টার ছাপিয়ে নিজের নাম বকলমে প্রচার করা এতদিন দেখা যেতো কংগ্রেস রাজনিতীতেই। এবার সেলিম সাহেবের হাত ধরে তা আমদানি হল এ রাজ্যে।
কি বলেন বিমান,বিনয়,বুদ্ধ ত্রয়ীরা ???
প্রকাশ বাবু,আপনি কি ভাবছেন???

Friday, April 17, 2009

সি.পি.এম পার্টি ক্যাডার শিক্ষকের কাছে প্রাথমিক শিক্ষায় আমাদের শিশুরা আর কতদিন শিখবে A B C D ঙ............।

ভাস্কর ব্যানার্জী, কলকাতা,১৭ই এপ্রিল'০৯
“মাতৃ ভাষা মাতৃদুগ্ধ’ অবশ্যই। কিন্তু শুধু এই তত্বের জোরে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি প্রতিষ্টিত করা যায় না। করলে যে ফলাফল হয় তা আজ পশ্চি্মবঙ্গের চোখের সামনে। গোটা একটা প্রজন্ম দুগ্ধ পোষ্য হয়ে বসে আছে বাংলা মায়ের কোল ‘আলোকিত’ করে । ক্লাস সিক্সে এ.বি.সি.ডি পড়া এই বঙ্গ সন্তানরা চোখের সামনে দেখেছে আই.টি,কলসেন্টার কিন্তু সেখানে প্রবেশ করে চাকরী পাওয়ার পথ রাজ্য সরকারের কল্যানে তারা হারিয়ে ফেলেছে শৈশবে। গ্লোবাল ভিলেজের যুগে তাদের চাকরী পাওয়ার চাবি কাঠি হারিয়ে গেছে ‘মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের’ গোলক ধাঁধায়।
একটা জীবনমৃত প্রজন্মের লাসের উপর দাঁড়িয়ে তিরিশ উদ্ধ সিপি আই(এম) সরকার আজ বুঝেছেন ‘মাতৃভাষা মাতৃদুগদ্ধ’ হলেও বহুভাষী এই বিশ্বে অন্য ভাষা শিক্ষা প্রয়োজন। প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু হয়েছে ইংরেজি শিক্ষাদানের কমর্সুচি। ব্রিটিশ কাউনসিল এবং অন্যন্ন ইংরেজি শিক্ষা দান কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
সাধু উদ্যেশ্য। তবে এখানেও একটা গলত চোখে বিঁধে চলেছে ক্রমাগত। গলতটি চিরাচরিত ক্যাডার রাজ। পার্টির সৌজন্যে প্রাথমিক স্কুলে চাকরী পাওয়ার লোকের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত। ‘শিক্ষক হওয়ার বায়োডাটায়’ কিছু গুন থাক না থাক কমরেড ভূষনে ভূষিত থাকার যোগ্যতা অবস্যই এদের থাকতে হবে’। এটাই যেনো এখন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক হওয়ার ‘প্রাথমিক ও সবর্শেষ গুনাবলি’।
এই তথ্যের প্রমান আছে ভুরিভুরি। চোখের সামনেই দেখা যায় কমরেডের অথর্নৈতীক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তার নেতারা কি ভাবে তাদের পাইয়ে দেন প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরী। কলকাতা অঞ্চলের ঘটনা এক ভিন্নরাজ্যের ছেলে ক্লাববাজি করে দিন কাটাতো। গত বিধান সভায় ভোটের সময় সে যোগ দেয় সিপি আই (এম) দলে ( সে দলের সদস্য বা CM নয়) । ভোটের পর সে পার্টির দয়ায় পায় ইট,বালি,সিমেন্টের সাপ্লাইয়ের কাজ। এখান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কন্ট্রাক্টারি। কিন্তু ব্যাবসায় টাকা যেমন ঝুঁকিও তেমন।নেতার হাতে পায়ে ধরে প্রথমে ঢোকে স্থানীয় এক স্কুলে প্যারা টিচারের কাজে। কিন্তু মাইনে কম। তাই আবার নেতার হাতে ধরা। অ্যাপলাই করে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক পদে, কিন্তু ভাঙা ভাঙা বাংলায় ভাষা-শিক্ষকের চাকরী মেলে কি ভাবে?
কেনো,নেতাজি হ্যায় না।
নেতার পরামর্শে জেনে নেয় ইন্টারভিউ বোর্ডে কে কে আছে। তার মধ্যে কার বাড়ী এই জোনাল কমিটির মধ্যে। ব্যাস কেল্লা ফতে একদিন সকালে তার বাড়িতে নেতার চিঠি নিয়ে হাজির। কার্যত ইন্টার ভিউ সেখানেই শেষ।
চাকরী তো মেলে, কিন্তু দলবাজী করে কাজ কি ভাবে চলে। ভাঙা ভাঙা বাংলায় কি করে ছাত্রদের স্পষ্ট উচ্চারন করতে শেখায়। বাংলা টিচার ‘সাউ’ এখন স্কুলের জানলা দিয়ে বাংলার আকাশ দেখে বাংলা শেখায়। আর ছাত্র ছাত্রীরা কাটাকুটি খেলে বাংলা শেখে।
এই ঘটনাটা যদি বিচ্ছিন্য হয়;তাহলে আপনার জানা ঘটনার সাথে যুক্ত হয়ে এটা স্বাভাবিক রেওয়াজে পরিনত হলো। আমাদের সবার জানা এরকম এক একটা ঘটনা প্রমানিত করছে এরকমই চলছে ‘হালহকিকত’।
বেশ চলছিলো তবে সমস্যা বাড়ালো ব্রিটিশ কাউন্সিল। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ট্রেনিং নিতে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকরা এখন চুড়ান্ত ভাবে অপমানিত। ব্রিটিশ কাউন্সিলের দেওয়া ট্রেনিং থেকে ‘A.B.C.D.ঙ’ তারা কি ভাবে শিখলো তা বুঝে উঠতে পারছেনা রাজ্য সরকার। স্কুলে ডেমষ্ট্রশন দেওয়ার কথা ছিলো এদের, সে ডেট এরা ক্রমাগত পেছচ্ছেন ‘পেট খারাপের অজুহাতে’।
বুদ্ধবাবু আপনার স্বপ্ন হয়তো একদিন সফল হবেই। কিন্তু ‘দিল্লি’ বহু দূর। যে রাজ্যবাসীকে আপনি বিশ্বমানের চাকরী দিয়ে সুখি প্রজন্ম বানাতে চাইছেন। তারা যে,এই সব ঘুনে ধরা শিক্ষকদের কাছে শিক্ষা নিয়ে ‘A.B.C.D.ঙ’ ছাড়া কিছুই বলতে পারেনা।
রাজ্যে স্কুলের হাল..............-

১৮% স্কুলের কোনও ঘর নেই
১৮% স্কুলের একটি করে ঘর
৩৬% স্কুলের শুধু নাম আছে বাস্তবে নেই।
৫০% স্কুলে বড়জোর দুজন শিক্ষক।
প্রাথমিক ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যায় রাজ্য দেশের মধ্যে ১৪ নং স্থানে।

ধর্ষনের স্বর্গ রাজ্য ভারতবর্ষ। প্রতি ঘন্টায় ধর্ষন হচ্ছে দুজন মহিলা........।


লোকসভা ভোটে ২২ শতাংশ মহিলা সংরক্ষনের দাবি জানিয়ে ইস্তেহার প্রকাশ করেছে সি পি এম। দল মত নির্বিশেষে গোটা দেশের সব কটি রাজনৈতীক দল মোটামুটি এ বিষয়ে সহমত। ভারতবর্ষ পৃথিবীকে দিয়েছে ইন্দিরা গান্ধী। যিনি রাজনিতীর চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন। খ্যাত হয়েছিলেন এশিয়ার মুক্তি সুর্য’ ভূষনে। বর্তমান শাসক জোট ইউ পি এ’র চেয়ার পার্সন একজন মহিলা। সনিয়া গান্ধী যার রাজনীতিতে পাঁচ বছর ভারত শাসন করলো কংগ্রেস। ভারতের প্রশাসনিক প্রধান রাষ্ট্রপতি প্রতিভা সিং পাটিল এক জন মহিলা। জয়ললিতা,মমতা ব্যানার্জী,মায়াবতী,বৃন্দাকারাত।সুষমা স্বরাজের মতো রাজনিতীর শির্ষে থাকা মহিলা এই ভারত মায়ের কন্যা রত্ন।
তবুও বাস্তব কতো নির্মম। এদেশে নারীদের উপর অত্যাচার ব্যাভিচারের মতো ঘটনা ঘটে আকছার। এই দুরারোগ্য ব্যাধির কবলে গোটা এই সমাজ ব্যবস্থা। প্রতি ঘন্টায় ভারতের দুজন মহিলা ধর্ষন হয়ে চলেছে ক্রমাগত। গত বছরে ২০,৭৩৭ জন মহিলা ধর্ষন হয়েছে এদেশে। যা বিগত বছর গুলির তুলনায় ৭.২ শতাংশ বেশী।আর ভারত বর্ষের মধ্যে ধর্ষনের মাত্রা সবথেকে বেশী মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে। মধ্যপ্রদেশ বছরে ধর্ষনের পরিমান ৩০১০ টি যা দেশের মোট ধর্ষনের ১৪.৫ শতাংশ। এর পরেই পশ্চিমবঙ্গ এখানে বিগত বছরে ধষর্নের মোট ঘটনা ঘটেছে ২.১০৬ টি। যার মধ্যে গন ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে ৯৩ টি। এর পরেই স্থান পেয়েছে উত্তর প্রদেশ (১,৬৪৮),বিহারে (১,৪৫৫) এবং রাজস্থান (১.২৩৮)ধর্ষনের ক্ষেত্রে ৯২.৫ শতাংশ ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে ধর্ষক ধর্ষিতার পরিচিত কেউ। ৬৯০২ টি ধর্ষনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ধর্ষক ধষির্তার প্রতিবেশি। পরিবারের বাবা অথবা ভাই-দাদার কাছে ধর্ষন হয়েছে এমন ঘটনা ৪০৫ টি। আত্মীয়ের দ্বারা ধর্ষনহয়েছে এমন ঘটনা ১৪৪৮ টি।৯০ শতাংশ ধর্ষনের ঘটনায় ধষর্ক ও ধষির্তার সুসম্পর্ক ছিলো। তারা একে অপরের সাথে কথা-বার্তা বলতো। ১৮-৩০ বছরের মহিলার বেশি ধর্ষিত হয়েছেন। ধর্ষক এর বয়স বেশি ভাগ ক্ষেত্রে ৩০-৫০ বছর।
দেশে ধর্ষন হওয়া মেয়েদের মধ্যে ৬১৭ জন ১০ বছরের নিচে। ৪,৫০৭ জন ১০-১৮ বছরের।
নারীদের উপর অত্যাচারে সবর্চ্চ স্থান অন্ধ্রপ্রদেশের। দেশের মোট অভিযোগ দায়ের করা ঘটনার ১৩.৩ শতাংশ অন্ধ্রপ্রদেশে। ধর্ষনের ও অন্যান্য নারী অত্যাচারে পশ্চিমবঙ্গ ক্রমবর্ধমান। এখানে মোট নারী নির্যাতনের ঘটনা ২২৬৭৪ টি। যা বিগত বছরে ছিলো ১৭৫৪৬ টি। ২০০৮ সালে এরাজ্যে গনধর্ষন হয়েছে ৯৩ টি। ধর্ষন হয়েছে ২০৯৫ টি। যৌন বৃত্তি করানোর জন্য নারী অপহরন হয়েছে ১৩৭ টি। মোট নারী অপহরনের সংখ্যা ১৮২৯ টি। ইভটিজিং এর অভিযোগ দায়ের করা সংখ্যা ১০২ টি। পনের জন্য পুড়িয়ে মারা হয়েছে ২৪ জনকে। অন্য উপায়ে পনের জন্য খুন হয়েছে ৫৪ জন। পনের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে ৩৭ জনকে। অন্যউপায়ে পনের জন্য খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে ৩৩০ জন মহিলাকে।পনের জন্য আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা করেছেন ১২৭ জন। অন্যউপায়ে পণ প্রথার কারনে আত্মহত্যা করেছে ৩২৫ জন। শ্বশুর বাড়ীর অত্যাচারের স্বীকার ১৩৯৪৭ জন মহিলা। ১৮ বছরের নিচে নারী পাচারের ঘটনা ধরা পরেছে ৪ টি।
এই যাবতীয় তথ্য শুধু সেই সব নারীদের যারা প্রকাশ্যে এনেছেন তাদের উপর অত্যাচারের কথা। সাড়ম্বরে পালিত হয় দূগার্ষ্টমীর শক্তি আরাধনা। নারীকে শক্তি বলে পুজিত হয় এদেশে। তবুও পরিবারের চাপে বহু নারী সাহস সঞ্চয় করে নিতে পারেন না ন্যায়। পুরুষ শাসিত এই সমাজের আজও অসহায় নারী। তাই এসব তথ্যে এখনো চমক লাগার কথা নয়।

Tuesday, April 14, 2009

নদীয়া মুশির্দাবাদে দেওয়াল লিখনের লোক নেই সি পি এমের।


ক্যাডার ভিত্তিক সি পি আই(এম) দলে এরকম অবস্থা আগে কখনো হয়েছে কি? বাহাত্তরের সেই দিন গুলি, যখন বর্তমান বিরোধীদের কাছে কোনঠাসা ছিলো সি পি এম। দল করা পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি ছিলো সিপি এম কমরেডদের কাছে। কিন্তু আদর্শকে শীরধায করে রাজনীতির ময়দানে নামতো সি পি এম কর্মীরা। রাতের অন্ধকারে নকশালদের বোমা গুলি বাঁচিয়ে চলতো দেওয়াল লিখন।
খবরের কাগজ আলতা দিয়ে লিখে সি পি এম কর্মীরা লিখতেন দলের মতাদশর্গত আদর্শ।
কিন্তু বর্তমানে আদর্শ বিষয় বস্তুটাই যে উধাও। তাই দেওয়াল লিখনের লোক নেই নদীয়া-মুশির্দাবাদ জ়েলা দুটিতে।আসলে ৩২ বছর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে মজে থাকা সিপিএমের বর্তমান প্রজন্ম ক্ষমতা ছাড়া আর কিছুর প্রতি আকষর্ন অনুভব করে না। তাই জ়েলা পঞ্চায়েত দলের ভরাডুবি অবস্থা তাদের বিমুখ করেছে রাজনীতি থেকে ।বিগত পঞ্চায়েত নিবার্চনে মুশির্দাবাদের ২৫৪ টি আসনের মধ্যে বামফ্রন্ট পেয়েছিলো ১০৬ টি আসন বিরোধীরা দখল করেছে বাকি ১২৫টি আসন।নদীয়ার ১৮৭ টি আসনের মধ্যে বামফ্রন্ট পেয়েছিলো মাত্র ৩৬ টি আসন বিরোধীরা দখল করেছে বাকি ১২৫টি ।নদীয়ার ১৭টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে বামফ্রন্ট এর দখলে ছিল এখন মাত্র ২ টি। মুশির্দাবাদের অবস্থাও সঙ্গীন।এমন অবস্থায় পার্টি কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক হতাশা।এই অবস্থা কাটিয়ে উঠে দেওয়াল লিখন বা প্রচারে নামতে তাদের তীব্র অনীহা।তাই এই দুই জেলা গুলিতে দলের রাজনইতিক হতাশাময় সময়ে সি পি এম পাশে পাচ্ছে না তাদের কমরেডদের।

Monday, April 13, 2009

১৩ র সৌভাগ্যে বলীয়ান প্রনব মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন আজ ১৩ ই এপ্রিল।

ভাস্কর ব্যানার্জী,কলকাতা,১৩ই এপ্রিল'০৯
লাস্ট সাপারে যীশুখৃষ্ট ১৩ জন ভক্তের সাথে নৈশ ভোজ সেরে ছিলেন। এর পরেই ক্রুশ বিদ্ধ হন যীশুখৃষ্ট। সেই থেকে ১৩ সংখ্যা মানব জাতীর কাছে বিভীষিকাময়।১৩ মানেই অশুভ। তাই তেরো থেকে বেঁচে চলে সবাই। পাশ্চাত্যের জর্ডিক কার্ড জ্যেতিষ শাস্ত্রে তেরো নম্বর কার্ডের ছবি একটি কঙ্কাল একটি মানুষের রক্তপান করছে। হিন্দু জ্যেতিষে, সংখ্যা তত্বে ১৩ সংখ্যা মানেই রাহু - ৩+১=৪। তাই গোটা পৃথিবী ১৩ সংখ্যা থেকে সমঝে চলে।
কিন্তু প্রনব মুখোপাধ্যায়ের ব্যাপারটা অন্য। পৃথিবীতে প্রনব মুখার্জ্জীই হয়তো একমাত্র মানুষ যিনি ১৩ সংখ্যার পেছনে ছোটেন।অবাক লাগলেও বাস্তব। প্রনব বাবুর অন্দর মহল থেকে ছেঁকে আনা তাজা খবর। প্রনব মুখোপাধ্যায় তার গুরুত্বপূর্ন সব কাজ বেছে বেছে ১৩ তারিখে করেন ।বলতে পারেন আজকে যে, প্রনব মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন সেটা ১৩ তারিখ। কোনও কাকতালিয় নয়। কোনও যুক্তিবাদি আর্দশ দেখাতেও নয়। প্রনব ভাগ্যের সৌভাগ্য দায়ক আশীবার্দ লাভের উদ্দেশ্যেই ১৩ তারিখে জমা দিলেন মনোনয়ন পত্র।
প্রনবের এই ১৩ প্রীতি আজ থেকে নয়। তিনি ভালোমতো জানেন ১৩ সংখ্যা তার কতোটা অনুকূল। তাই ১৩ সংখ্যাকে ব্যবহারও করেন সৌভাগ্যের হাতিয়ার হিসাবে। বিয়ে করেছেন ১৯৫৭ সালের ১৩ই জুলাই। বিয়ে একজন মানুষের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ন তা ভারতীয় সমাজে নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। একজন পুরুষের জীবন উন্নতির জন্য তার স্ত্রীর ভূমিকা অসামান্য। ১৩ সংখ্যায় বিয়ে করে প্রনব বিবাহ জীবনের অসাধারন সুফল পেয়েছেন। স্ত্রীর সাথে তার মানসিক মিল তার জীবনকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছে। প্রনব বাবুর এই সাফল্যের পেছনে র‌য়েছেন প্রনব জায়া সুভ্রা মুখোপাধ্যায়। যিনি সাধারন এক কলেজের প্রফেসার প্রনব মুখোপাধ্যায়ের জীবনে এসেছিলেন ১৩ তারিখে।
কেন্দ্রিয় সরকারের থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রনব মুখোপাধ্যায়কে সব সময় হাতের নাগালে পাওয়ার জন্য সনিয়া গান্ধী প্রনব কে অনুরোধ করেছিলেন ৯ নম্বর জনপথে পাকাপাকি ভাবে চলে আসার জন্য। প্রনব জানতেন, ৯ নম্বর জনপথে এলে দল ও সরকারের কাজের ক্ষেত্রে কতটা সুবিধা হবে। তবুও তিনি রাজী হননি কংগ্রেস সভানেত্রীর কথায়। কারন সেই ১৩।প্রনব দিল্লিতে থাকেন ১৩ নম্বর তালকোটরা রোডে। ১৩ নম্বর বাড়িতে থেকেই তিনি হয়েছেন ভারত সরকারের দুই নম্বর ব্যক্তিত্ব। বিদেশ মন্ত্রী হয়ে কাঁপিয়েছেন বিশ্ব। ১৩ সংখ্যার পিছনে প্রনব যেমন ছোটেন, ১৩ সংখ্যার সৌভাগ্যও তেমন ছোটে প্রনব মুখোপাধ্যায়ের পিছু পিছু। প্রনব প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন ১৩ জুন ১৯৮০ সালে। ভারতের আন-অফিসিয়াল প্রধানমন্ত্রী কি এবার অফিসিয়ালি ভারতের প্রধান মন্ত্রী হবেন? উত্তরটা যদিও দেবে ভবিষ্যত, কিন্তু ১৩ সংখ্যার সুষ্টার ডোস নিয়ে ময়দানে নেমে গেছেন প্রনব। দেখা যাক,১৩ র বরপুত্র এবার কতটা এগোতে পারেন।

কংগ্রেসের আভ্যন্তরিন দ্বন্দের ভয়াবহ রুপ মুশির্দাবাদ


দিলীপ সাউ,কলকাতা,১৩ই এপ্রিল'০৯
আর মাত্র কয়েকটা দিন। লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব। কিন্তু মুশির্দাবাদের কংগ্রেসের অবস্থা ছন্নছাড়া। নিচু তলার কংগ্রেস কর্মীরা এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না তারা কি করবেন। কারন, কারন সেই একই ;অধির-মান্নান দ্বন্দ। দু দিন আগে বিপরীত মেরুতে অবস্থানরত দুই নেতা এক সাথে মিটিং করলেন,
হাতে হাত মিলিয়ে প্রেস ডেকে ফটো তুললেন। কিন্তু তার পরেই সব স্তব্ধ। কোথাকার জল কোথায় গড়ালো কে জানে মাঝখান দিয়ে ভেসে গেলো মুশির্দাবাদ কংগ্রেস।
মুশির্দাবাদের বহু গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা সমিতি কংগ্রেসের শাসনাধীন কিন্তু তবুও এই অঞ্চল গুলিতে চোখে মিলছে না একটিও কংগ্রেসের পতাকা। কর্মীর অভাব নেই। অভাব কর্মীদের মনবলের। অধীরের গোসায় যদি তোলপাড় হয়ে যায় সবকিছু তাই সাহস করে ‘মান্নান হুসেনকে হাত চিহ্নে ভোটদিন’ কথাটা লিখতে পারছেননা তারা। এই অন্তঃসংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসে গত লোকসভা নিবার্চনের পর থেকে। মুশির্দাবাদ জ়েলা কংগ্রেসের সভাপতি অধির রঞ্জন চৌধুরীর সাথে মান্নান হুসেনের দ্বন্দ আজীবন। অধির রঞ্জন আর মান্নান হোসেন দুজনেই ছিলেন সোমেন অনুগামী। দুইজনের মধ্যে কে তৎকালীন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতির কাছের মানুষ হবেন সেই নিয়ে চলতো মৃদু উত্তেজনা। সোমেন অধিরকে বিধান সভার টিকিট দেন। তখন মমতা প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করেন। খোলা মঞ্চে আত্মহত্যা পযর্ন্ত করতে যান। কিন্তু তবুও অধির কে এগিয়ে নিয়ে চলতো সোমেন। দলের মধ্যে ও বাইরে অধিরের শত সমালোচনাকে পাশে রেখে রাজনৈতীক ভাবে অধির চৌধুরীকে সাহায্য করতে কখনো কসুর করেননি সোমেন। তবে অধির শেষ পযর্ন্ত সোমেনের এই সাহায্যের কতটা প্রতিদান দিয়েছিলেন তা আজও বিশ্ময়ের মোড়কে বাঁধা। হঠাৎ সোমেন মিত্রকে পাশ কাটিয়ে অধির হয়ে উঠলেন প্রিয়রঞ্জন ভক্ত। অধিরের এই পরিবতর্নকে কাজে লাগালেন মান্নান। মান্নান আস্তে আস্তে হয়ে উঠলেন মুশির্দাবাদে সোমেনের প্রতিনিধি। আর তার চরম রাজনৈতিক শত্রু রইল অধির রঞ্জন। অধির ও মান্নানের এই দ্বন্দ এখন এমন পযার্য়ে পৌছেছে যে মুশির্দাবাদে কংগ্রেস দলের উর্দ্ধে স্থান পেয়েছে এই অধির-মান্নান ‘লবি বাজি’। দল মুশির্দাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী মান্নান হোসেন কে করলেও, মুশির্দাবাদের জেলা সভাপতি,বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী এবং মুশির্দাবাদের লোককথিত বেতাজ বাদশা অধির রঞ্জনের অদৃশ্য অঙ্গুলি নির্দেশে স্তব্ধ হয়ে র‌য়েছে মান্নান হুসেনের ভোট প্রচার পব।

মনমোহন Vs আদবানী...........



লোকসভা ভোটের পর কে হবেন ভারতের ভাগ্য বিধাতা। কার বুদ্ধির জোরে চলবে দেশ। জল্পনা এখন তুঙ্গে। ওয়েব সাইট গুলির ভোটের তালিকায় এগিয়ে মনমোহন। প্রায় ৪৩% ভোট পেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। আদবানী, ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন মনমোহনের। তার জনপ্রিয়তার হার ৩৯.৮%। এর পর র‌য়েছে সোনিয়া,রাহুল,মায়াবতি। তবে তাদের জনপ্রিয়তার শতকরা হার তেমন উল্ল্যেখ যোগ্য নয়।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও এগিয়ে মনমোহন। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর মনমোহন সিংয়ের মোট সম্পত্তির পরিমান ৩ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা। রাজনিতীবিদ ও ব্যাবসাদার ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার আদবানীর মোট সম্পত্তি সেখানে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। আদবানীর আছে দুটি ফ্ল্যাট ও একটি বাড়ি। মনমোহনের আছে দুটি বাড়ি। আদবানীর নিজের কোনও গাড়ি নেই। মনমোহনের নিজস্ব গাড়ি বলতে একটি মারুতি ৮০০। আদবানীর ব্যাঙ্কে জমা ১ কোটি ৪ হাজার টাকা। মনমোহনের ব্যাঙ্কে আছে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা।
এসব কিছুতে মনমোহন এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী পদের সম্ভাবনায়। বিজেপি ঘোষনা করে দিয়েছে,তারা জিতলে আদবানীই হবেন প্রধানমন্ত্রী, তবে কংগ্রেস নিদির্ষ্ট ভাবে কাউকেই প্রধানমন্ত্রীর দাবিদার ঘোষনা করে নিবার্চনে নামেনি।তবে মনমোহনের সম্ভাবনাই প্রবল।