Saturday, March 7, 2009

জাতীয় দলের মর্যাদা হারাচ্ছে সিপিআই.........।




দিলীপ সাউ,কলকাতা,৭ই মার্চ'০৯

এবারের লোকসভা নির্বাচন নতুন এক পরীক্ষার মধ্যে দাঁড় করালো কমিউনিষ্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া-কে। ভারতের প্রাচীন রাজনৈতিক দল সি পি আই। তাদের জাতীয় দলের তকমা থাকবে কি থাকবে না তা নির্ধারন হবে আসন্ন লোকসভা ভোটের ( ২০০৯ সাল) ফলাফলে।


এর আগে যখন ২০০৪ সালে নির্বাচন কমিশন জাতীয় দলের মর্যাদা প্রাপ্ত দলগুলির জন্য নয় দফা বিধি অনুসারে চলছিলো তখনো এরকমই জাতীয় দলের মর্যাদা হারানোর সঙ্কটে পরেছিল সিপিআই। নির্বাচন কমিশন তখন সিপিআই কে শোকজ করে জানতে চেয়েছিলো , কেন তাদের মর্যাদা জাতীয় দল থেকে আঞ্চলিক দলে অবতীর্ন হবে না ?


তখন জাতীয় দলের মর্যাদা পেতে গেলে রাজনৈতিক দলকে চারটি রাজ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে ছয় শতাংশ ভোট পেতে হত ন্যুনতম ওই চারটি রাজ্যে। অথবা তিনটি রাজ্য থেকে লোকসভার মোট আসনের দুই শতাংশ আসনে জয়লাভ করতে হত।


২০০৪ সালের ভোটে সিপিআই লাভ করতে পেরেছিল মাত্র ১.৪১% ভোট। নিয়ম মাফিক ১১জন সাংসদ থাকার কথা থাকলেও সিপিআই জিতেছিল মাত্র ১০টি লোকসভা আসন। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী জাতীয় দলের মর্যাদা হারাতে বসেছিল সিপিআই। ২০০৫ সালে কমিশনের বিধি পরিবর্তনের ফলে সিপিআই সহ অন্যান্য রাজনৈতিক ছোট দলও লাভবান হয়েছিল। সেই যাত্রায় সিপিআই রক্ষা করতে পারে তাদের জাতীয় দলের মর্যাদা।


২০০৫ সালে কমিশনের ঘোষিত জাতীয় দল বিধিতে ছিলো – যে চার রাজ্যে সাংসদ থাকলে বা চার রাজ্যে, রাজ্য দলের মর্যাদা পেলেই একটি দল জাতীয় দলের মর্যাদা পাবে। সিপিআই এর তখন পাঁচ রাজ্যে, রাজ্য দলের মর্যাদা ছিলো। রাজ্য গুলি হল- পশ্চিম বঙ্গ, কেরল,মণিপুর, ঝাড়খন্ড ও তামিলনাড়ু। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝাড়খন্ড ও মণিপুরে সিপিআই এর কোন সাংসদ নেই। সম্প্রতী ঝাড়খন্ডের সিপিআই সাংসদ প্রয়াত হওয়ায় , এখন মাত্র পশ্চিম বঙ্গ, কেরল ও তামিল নাড়ুর সাংসদ নিয়ে আছে সিপিআই। সামনে লোকসভা ভোটে যদি চার রাজ্য থেকে সিপিআই ভালো ফলাফল করতে না পারে তাহলে বর্তমান জটিল পরেস্থিতিটা বহন করতে হবে আগামী পাঁচ বছর।

Friday, March 6, 2009

সমাজ তন্ত্রের স্বপ্ন হারিয়ে বাম আদর্শ এখন প্রার্থীপদ লাভের সংগ্রামে বিপ্লবি....




ভাস্কর ব্যানার্জী, ৬ই মার্চ,২০০৯, কলকাতাঃ
প্রমোদ দাশগুপ্ত ভাগ্যবান কারন তাকে দেখতে হল না এই দিনটা। তবে জ্যোতি বাবু দেখলেন। কমিউনিষ্ট আদর্শে যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। যৌবনের লাভাস্রোত কে যিনি প্রভাহিত করে ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শোষন মুক্ত সর্বহারাদের রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নে। এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে কম আত্মত্যাগ করেননি তিনি। কিন্তু জীবনের সায়াহ্নে এসে তাকে দেখতে হল তারই দলের এমন এক ভাবিকাল, যারা ক্ষমতার লোভে আদর্শচ্যুতই হয়নি, নৃসংস ভাবে কুঠারাঘাত করে আদর্শের মূলে।
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে একদল ক্ষমতা লোভি স্বার্থান্বেষী বাম নেতাদের চরিত্র। যারা এতদিন মহান বামফ্রন্টের ঐক্য, প্লরেতারিয়েতের সরকার, সমাজ তন্ত্রের গুনমুগদ্ধ কমরেড ছিলেন। নির্বাচনে টিকিট না পেতেই তারা হয়ে উঠলেন ঘোর কমিউনিষ্ট বিদ্বেষী, গনতন্ত্রের পুরোহিত।
সইফুদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে সিপিএমে, এই রকম হঠাৎ আদর্শ বিদ্বেষী হওয়ার সূচনা। প্রায় চল্লিশ বছর কমিউনিষ্ট আদর্শে বিশ্বাসি সফি হঠাৎ বিদ্রোহ করেন। এক পার্টির শাসনে বিশ্বাসি’ দলে দাবি করলেন গনতন্ত্রের। হয়ে উঠলেন গনতন্ত্রের প্রেমিক। শেষে হাত মেলালেন ‘তথাকথিত’ চরম ডানপন্থি পার্টি তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে।
২০০৯ সালে বাম আদর্শের গ্রাফিক চিত্রটা আরও ভয়াবহ। আদর্শের পরোয়া না করে এক দল নেতা শুধু মাত্র পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার (যাকে এক সময় বামপন্থিরা বলতো শুয়োরের খোঁয়াড়) টিকিট না পেয়ে চলে গেলেন বিপরীত শিবিরে।
আবু সাহেব, যিনি আগের নির্বাচনেও ভোট চেয়েছেন ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠনের আদর্শ বিনিময় করে। টিকিট না পাওয়ায় তিনি হুঙ্কার ছাড়লেন-‘মুসলিম ভোটের একটা বড় অংশ রয়েছে আমার সাথে। বহু সংখ্যালঘু নেতা আমার সাথে যোগাযোগ রাখছেন’।
বৃহস্পতিবার (৫.৩.২০০৯) মমতার সাথে দেখা করে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন আবু আয়েশ মন্ডল। আবু এখন তার পুরনো দলকে ভয় দেখাচ্ছেন-‘অনেক গোপন তথ্য আছে আমার কাছে। সব ফাঁস করে দেব’।
সিপিএমের আবু আয়েশ মন্ডলের মতো দল ছাড়লেন ফরওয়ার্ড ব্লকের হিতেন বর্মন। তারও দুঃখের কারন লোকসভা ভোটে টিকিট না পাওয়া। কোচবিহারে এ বার হিতেন বর্মনের জায়গায় ফরওয়ার্ড ব্লক মনোনয়ন দিয়েছে নৃপেন রায় কে। কিন্তু দলের এই সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি হিতেন বাবু। এখনও নতুন দলে যোগ দেওয়ার কথা হিতেন বাবু না বললেও রাজনৈতীক সন্যাস নেওয়ার কথা ঘোষনা করে দিয়েছেন, নেতাজীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ দলের এই নেতা।
আর.এস.পি নেতা জোয়াকিম বাকলাও ক্ষুব্ধ দল টিকিট না দেওয়ায়। আরএসপি সুত্রে খবর- প্রকাশ্যে জোয়াকিম তার ক্ষোভের কথা বললেও এখনও দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেননি।
এই নেতাদের আদর্শচ্যুত হওয়ার দৌড়ে বামফ্রন্টে এক মাত্র নিস্কলঙ্ক সিপিআই। কারন তাদের কোন নেতা বিদ্রোহ করেননি। আসলে তারা গতবারে জয়ী কোনও প্রার্থীকেই বঞ্চিত করেননি। যদি করতো তাহলে চিত্রটা কি হত তা বলা যায়না।
যারা এক সময়ের সিপিএমের ধ্বজাধারী ছিলেন সেই কমরেডরা গঠন করল নতুন দল পি ডি এস। যার নেতৃত্বে এলেন এক সময়ের দঃ২৪ পরগনা জেলার দোর্দ্যন্ড প্রতাপশালী নেতা সমীর পুততুন্ড সঙ্গে তার সহধর্মিনী সহকর্মী অনুরাধা পুততুন্ড এবং কাটোয়ার প্রাক্তন সাংসদ সইফুদ্দিন চৌধুরীর। সফি সমীর বাবুরা প্রথমটা শুরু করে ছিলেন সাড়া জাগিয়ে। কিন্ত তারা কেন সঙ্গে পেলেন না সিপিএম থেকে বের করে দেওয়া বা বেড়িয়ে আসা আবু আয়েশ মন্ডলদের।সিপিএমের বিকল্প সিপিএম বানাতে সফি বাবুরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।কেন তাদের গঠিত দলের এ রকম হাল সে নিয়ে সফি সমীর বাবুরা কখনও কি ময়না তদন্ত করে দেখেছেন???? সমাজ তন্ত্রের স্বপ্ন হারিয়ে বাম আদর্শ এখন প্রার্থীপদ লাভের সংগ্রামে বিপ্লবী।

জোটঃ তৃণমূলের সাথে জোটে দ্বিধাবিভক্ত কংগ্রেসের অন্দর মহল।


দিলীপ সাউ,কলকাতা,৬ই মার্চ'০৯

জোট নিয়ে প্রথম থেকে চাপা উত্তেজনা ছিল কংগ্রেসের অন্দর মহলে। সুব্রত মুখোপাধ্যায় যেনতেন প্রকারে জোটের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু জোটের পরেও তার জেতার সম্ভাবনা কম। মমতা বন্দোপাধ্যায় যে আসন গুলি কংগ্রেস কে ছাড়ছেন সে গুলি অধিকাংশই তপসিলি জাতি ও উপজাতি সংরক্ষিত। এখন সুব্রতর বক্তব্য- আমরা জোট চাই কিন্তু যে ভাবে আসন বন্টন হচ্ছে, তা কংগ্রেসের হিতের পক্ষে ক্ষতিকারক। আসন বাছাইয়ে কংগ্রেসের স্বার্থও দেখতে হবে।

অন্য দিকে দীপা দাসমুন্সি, আব্দুল মান্নান, শঙ্কর সিংরা ছিলেন সন্মান জনক শর্তে জোটের পক্ষে। এই জন্য তাদের জোট বিরোধী পর্যন্ত বলা হয়েছিল।

সুব্রত মুখপাধ্যায়, প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং মানস ভুঁইয়া গতকাল দিল্লিতে আহমেদ প্যাটেলের সাথে বৈঠক করলেন। সেখানে আমেদের হাতে সন্মান জনক শর্তে জোট করার বিষয় লেখা এক স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। ওই একই স্মারক ফ্যাক্স করা হয় সোনিয়া গান্ধিকেও। আহমেদ প্যাটেল ও সোনিয়া গান্ধিকে পাঠানো স্মারক লিপিতে দীপা-মান্নান- শঙ্করের সই চেয়েছিলেন মানস। কিন্তু শঙ্করের সাফ জবাব আগে জোট-বিরোধী বলে এখন আমাদের সই চাওয়ার মানে কি ?

তৃণমূলের সাথে জোট করার ক্ষেত্রে সন্মান জনক শর্তে জোট গঠনের কথা প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন দীপা দাসমুন্সি, তার সাফ বক্তব্য- ‘এক তরফা আসন বন্টন কাম্য নয়’। দীপা এই ইস্যুতে সোনিয়া গান্ধিরও সমর্থন আদায় করেছেন।

যেনতেন প্রকারে জোট পন্থি নেতারা আসনের গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করায়,দীপা-আব্দুল- শঙ্কর শিবিরের সাথে নীতিগত ভাবে এই নেতারা সহমত হলেও মন কষাকষির একটা ছায়া যুদ্ধ, এখনো দ্বিধাবিভক্ত করে রেখেছে প্রদেশ কংগ্রেস।



Wednesday, March 4, 2009

মোহনবাগানের পরাজয়ের ধারা অব্যাহত........


স্বরূপ বোস,কলকাতা,৪ঠা ফেব্রুঃ০৯ আজকের খেলায় চার্চিলের কাছে ৩-১ গোলে হেরে মোহন বাগান লিগ তালিকায় তিন নম্বরে।
আজকের আই লিগের খেলায় মোহন বাগান ৩-১ গোলে হেরে গেল চার্চিলের কাছে। চার্চিল মোহন বাগান কে হারিয়ে ৩৬ পয়েন্ট পেয়ে লিগ তালিকার এক নম্বরে পৌছে গেল। অন্য দিকে মোহবাগান ৩৩ পয়েন্টে থেকেই তৃতীয় স্থানে পিছিয়ে গেল।
খেলার প্রথম দিকের ২৮ মিনিটের মাথায় ব্যারেটোর গোলে এগিয়ে যায় মোহন বাগান। এর পর চার্চিল দলের ওডাফা প্রথম অর্ধের ৪৭ মিনিটের মাথায় গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনে। দ্বিতীয়ার্ধে চার্চিলের ওগবা কালু ৫৭ মিঃ ও ৭৭মিনিটে দুটি গোল করে দলকে ৩-১ এ বিজয়ী করে।

Monday, March 2, 2009

কেন এই রিসিশানঃ আমরা কি দায়ী নই......।

লেখকঃ মৃনাল মজুমদার
. ০১. গ্রোথ গ্রোথ গ্রোথ। কিন্তু বিপ চাইলেই কি বাড়ানো যায় ? শেয়ার হোল্ডার ভ্যালু না বাড়ালে কোন কোম্পানির স্ট্যাটাস থাকেনা। আর শেয়ার হোল্ডার ভ্যালু বাড়াতে গেলে সম্পদ বাড়ান দরকার, রিয়েলিটিতে সম্পদ বাড়াতে না পারলেও ব্যালেন্স সিটে কারচুপি করে বাড়ানো যায়। যেমন এনরন, সত্যম।
.
. ০২. কয়েক বছর পূর্বে সেনসেক্স ৩০০০ হাজার ছিলো। ধরে নি গত ৬ বছরে ভারতে ভিজি ৯% বিপ বেড়েছে, সে ক্ষেত্রে সেনসেক্স ৫৪% বাড়া উচিৎ ছিল । যেহেতু শেয়ার মার্কেটে ফিউচার নিয়ে ট্রেডিং হয়। তাই সবসময় পরবর্তি ২ বছর (সত্যি বলতে ৬ মাস) পর কি হতে পারে স্পেকুলেট করে শেয়ার আর মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কাজেই গত ৬ বছরে যদি সেনসেক্স দ্বিগুন হত, কোন প্রবলেম থাকতো না।

০৩. ব্যাঙ্ক আমাদের টাকা জমা রাখে। সেই টাকা ইনভেষ্ট করে, মানে কোন ব্যক্তি , কোম্পানি, সরকার বা অন্য ব্যাঙ্ককে ঋণ দেয়। কেঊ কেঊ শেয়ার মার্কেটে খাটায়।
০৪. ব্যাঙ্ক আসলে ঋণ দিতে না পারলে ওদের ব্যবসা চলে না। সব থেকে সহজ হল যদি ব্যাঙ্ক কোন সম্পত্তি বন্দক রেখে ঋণ দেয়, যেমন ফ্ল্যাট। এখন ফ্ল্যাটের একটা মূল্য আছে। সেই মূল্য একটা নির্দিষ্ট হারে বাড়ে, মিনিমাম যতটা বাড়ে ততটা মূল্য বৃদ্ধি হয়। কিছু দালাল আছে যারা রিয়াল এস্টেটের মার্কেট নির্ধারন করে। অনেক দিন ধরে সেই মূল্য বেড়ে গেছে। যেহেতু ব্যাঙ্ক দেখলো, মূল্য বাড়ছে তাই কোন সমস্যা নেই, ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে ধার দিতে।
০৫. এক সময় দেখা যায়, যে ঋণ গ্রহিতা টাকা শোধ করতে পারে না, তখন ব্যাঙ্ক সম্পত্তি দখল করে নেয়, বাজারে সেই ফ্ল্যাট বিক্রি করে টাকা উঠিয়ে নেয়।।কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে দেখা গেলো, যে বিক্রি করলে ৫০% ও পাওয়া যায় না।
০৬. শেয়ারের যেমন মূল্যটার উপর ভরসা করে ব্যাঙ্ক ঋন দেয়।যদি শেয়ারের দাম কমে যায়, ঋণ থেকে যায়,ব্যাঙ্ক চাপ দেয়,কোম্পানি টাকা দিতে পারে না।
০৭. এক ব্যাঙ্ক সাময়িক অর্থনৈতীক সমস্যার সমাধান করতে অন্য ব্যাঙ্ক থেকে ধার নেয়।
০৮. ব্যাঙ্ক এখন বুঝেছে, যে সব ব্যাঙ্কের হাল খারাপ,তাকে কেউ ঋণ দেয় না।
০৯. সাধারনত বেশির ভাগ কোম্পানির যা বুক ভ্যালু,তার ১০-৩০% ব্যাক্তিগত মূলধন।বাকি টাকা ধার করা।যা ব্যাঙ্ক থেকে বা অন্য ভাবে।
১০.তা হলে দেখা গেলো, যে টাকা রোলিং হয়,তার ৭০%-৯০%অন্যের টাকা। এখন কোন কোম্পানি যদি নিজের ১০%-৩০% টাকা খরচ করে ফেলে,তখন তার আর নিজের টাকা থাকে না,ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেয়, ব্যাঙ্ক ঋণ দেয়,কম্পানি তার বিল প্রেমেন্ট করতে পারে না।
১১. সেই কারনে কোম্পানি চেষ্টা করে কর্মী সংখ্যা কমাতে।
১২. মানুষের আয় কমে গেলে,অনেক লোক বেকার হলে,ভয় পেয়ে যাদের টাকা আছে তারাও খরচ করা কমিয়ে দেয়।
১৩.যেহেতু জিনিসের চাহিদা কমে যায়।বিক্রি কমে যায়,তাই আরও অনেকে বেকার হয়। ১৪.আমরা যে ইন্সুরেন্স করি তারাও সেই টাকা ইনভেষ্ট করে। সেই ইন্সুরেন্স কোম্পানিও আবার ইন্সুরেন্স করায়।এখন সেই কোম্পানি যে কোম্পানিতে ইন্সুরেন্স করিয়েছে, তাদেরই অবস্থা যদি খারাপ হয় ডমিনো এফেক্ট হয়।এক সাথে সব ভেঙে পড়ে-যা এখন হয়েছে।
১৫. আজকাল পশ্চিমী জিনিস অনেক আধুনিক,তাড়াতাড়ি নষ্ট হয় না,একটা গাড়ি কিনলে ১০-২০বছর চলে,রাস্তাও ভালো।তাই গাড়ির চাহিদা সেই হারে বাড়ছে না।
১৬. লোকের টাকা থাকলে গাড়ি কিনবে বা বাড়ি কিনবে!যখন মানুষ ভয় পায়, তখন খরচ করা কমিয়ে দেয়,বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়,নতুন গাড়ির বিক্রিও কমে যায়-যা এখন হয়েছে।
জোর করে কতদিন চাহিদা বাড়ানো সম্ভব?
১৮. এক মাত্র চাহিদা বেড়েছে মুদির দোকানের জিনিসের,কারণ লোক বাড়ছে, কিন্তু কৃষি জমি কমছে।
১৯. আমরা দিনের পর দিন বড়োলোক হতে চাই,যে ১ লাখ আয় করছে সে এখন ২ লাখ আয় করতে চায়।
২০. কয়েক দিন পর সব জিনিসের দাম বেড়ে যাবে, মুদ্রাস্ফিতি বাড়বে কারন বাজারে অনেক টাকা আসছে।
২১. চারিদিকে হাহাকার বাড়বে। সর্বহারারা ক্ষেপে যাবে,গৃহ যুদ্ধ বাড়বে।
২২. ১৯২৮-১৯৪৫---ইতিহাস পড়ুন।কেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলো।
২৩. কাজেই এই অবস্থার পরিণতি হল ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার’ বা নতুন রাজনৈতীক ব্যবস্থা-যেমন সোসাল ক্যাপিটালিজম।
২৪. ভারতের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন। কারণ জ্বালানি আমদানি করতে হয়। সোনা আমদানি করতে হয়র উইপেন আমদানি করতে হয়।কিন্তু রপ্তানি করে কেবল জামাকাপড়, চা,বিভিন্ন যোগ্যতা সম্পন্ন শ্রমিক ইত্যাদি।
২৫. ভারতের সেই অর্থে কোন পেটেন্ট নেই,একটা ট্যাবলেট বানালেও পেটেন্টের জন্য টাকা দিতে হয়।
২৬. ভারতের রপ্তানি বানিজ্য কমে যাবে, কিন্তু আমদানি কমবেনা,ফলে বৈদেশিক মুদ্রা যা জমা হয় তা আর থাকবেনা।
২৭. এমন নয় যে ভারতের কম্পিউটার জানা কর্মী ছাড়া বিশ্ব চলবেনা,যেহেতু কর্মী চাহিদা কমে যাবে তাই বিদেশী কর্মীদের প্রথমে ছাঁটাই করবে আর দেশীয় কর্মী ৪০ঘন্টার জায়গায় ৬০ঘন্টা কাজ করবে।
২৮. ভারতীয় ঋণ গ্রহিতারা টাকা শোধ করতে পারবে না,ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
২৯. সরকার টাকা ধার করতে যাবে, কিন্তু বিশ্ব বাজার থেকে টাকা ধার করা সম্ভব হবে না।
৩০. তখন সরকার টাকা ছাপতে শুরু করবে,আর জিনিসের দাম বেড়ে যাবে।
৩১. সরকার তাই করে আমরা যা চাই। কারন ভোটে জিততে হবে। কাজেই মূল দোষী সরকার নয়, আমরাই। অবশ্য আমরা বোকা বোলে আমাদের দেশে সরকার যা করে, আমরা তা মেনে নিই। কারণ আমরা পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝিনা, যে যেটা নিয়ে পরেছি সেটাই বুঝি। কিন্তু আপনারা দেখলেন যে একটা সমস্যার সাথে অন্য সমস্যা কতটা জড়িত।

কি শিখলামঃ লাভে পাপ পাপে মৃত্যু। মানুষের বিশ্বাস যাতে বজায় থাকে সেটা সবার চেষ্টা করা উচিৎ । অতি তাড়াতাড়ি বেড়োনা, ঝড়ে ভেঙে পোড়না। খুব তারাতারি বড়লোক হতে গেলে ভিখারি হওয়ার ভয় থাকে। বিলিতি মদ না খেয়ে চোলাই খান, টাকাটা দেশেই থাকবে।
যোদি আপনারা চান, আমি তা হলে একটা সমাধানও ভেবেছি, এক সময় না হয় তা নিয়ে লিখবো।

http://vinnobasar.blogspot.com/2009/03/new-ad-to-be-continued.html

Sunday, March 1, 2009

বিষ্ণুপুরে জয়ী তৃনমূল.......আলিমুদ্দিনে চুলচেরা বিশ্লেষণ...

উত্তম সরদার,সন্দেশ খালি,পঃবঃ,১লা মার্চ'০৯
বিষ্ণুপুরে বিধান সভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে শাসক বামফ্রণ্টকে পর্যুদস্ত করে জয়লাভ করল তৃনমূল কংগ্রেস।এই নির্বাচনের দিকে সারা বাংলার মানুষ তাকিয়ে ছিল।এই আসন টি গত বিধান সভা নির্বাচনে সিপিএম ৪ হাজার ভোটে জয় লাভ করেছিল।সে সময় কংগ্রেস প্রার্থী ১৮ হাজার ভোট পাওয়ায় সিপিএমের জেতার পথ সুগম হয়েছিল।প্রথমে কংগ্রেস প্রার্থী দিলেও শেষ মুহুর্তে প্রত্যাহার করে নেয়।প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েই সাথে সাথে তৃনমূল প্রার্থীর সমর্থনে কাজে নেমে পড়ে কংগ্রেস কর্মীরা।

২৬শে ফেব্রুয়ারী ভোট গ্রহন পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়ের ব্যবধান নিয়ে অংক কষতে শুরু করে বিরোধীরা। আজ সকাল থেকে ভোট গননা শুরু হওয়ার প্রথম রাউন্ড থেকে তৃনমূল কংগ্রেস প্রার্থী মদন মিত্র এগিয়ে থাকে।চতুর্থ রাউন্ড গননা শেষ হওয়ার পর সব কিছু পরিস্কার হয়ে যায়।
বাম বিরোধী জোট রাজনীতি আগামী দিনে আরো শক্তিশালী করতে বিষ্ণুপুরের মানুষ প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের কাছে যে বার্তা পাঠাল তাকে বিরোধী নেতৃত্ব স্বাগত জানাল।

আজকের এই ফলাফলের পরে আলিমুদ্দিনে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে।

http://vinnobasar.blogspot.com/2009/03/new-ad-to-be-continued.html

Saturday, February 28, 2009

গ্রাম দখলের লড়াইঃ রণক্ষেত্র চন্দ্রকোনা,সিপিএমের গুলিতে জখম ৮ গ্রাম বাসি

প্রিয়াংকা রায়,ঘাটাল,পঃবঃ,২৮শে ফেব্রু’০৯
গ্রাম দখলের লড়াই গুলি বোমা নিয়ে আক্রমন করলো সি পি এমের স্বসস্ত্র বাহিনী। তাদের ছোঁড়া গুলিতে আহত গ্রাম বাসি।
ঘটনাটি নতুন নয় সিপিএমের এ রকম তান্ডব চলে এ রাজ্যে মাঝে মধ্যেই। শুধু পালটে যায় স্থান কাল।
এলাকা দখলের উদ্দেশ্যে একদল স্বসশ্ত্র যুবক শুক্রবার ভোরে চন্দ্রকোনা টাউন থানার কৃষ্ণপুরে আক্রমন চালায়। সি পি এমের এই বাহিনীর আক্রমনে জখম হন ৮ জন গ্রামবাসি।
জখম গ্রাম বাসিদের মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে ছুটে আসে। পুলিশের গুলিতে দু’জন আক্রমন কারী আক্রান্ত হলে তারা পালিয়ে যায়।
লোকসভা ভোটের আগে কৃষ্ণপুরে দল ছুটদের বাগে আনতে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সি পি এম এই আক্রমন করেছে। দলীয় সমর্থকদের আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল । সি পি এম এর এই পরিকল্পনা পরে ফাঁস হয়ে যায়।যদিও সিপিএমের চন্দ্রকোনা -১ নং জোনাল কমিটির সম্পাদক তথা স্থানিয় বিধায়ক এই পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন।
http://vinnobasar.blogspot.com/2009/03/new-ad-to-be-continued.html